Powered By Blogger

সোমবার, ৪ জুন, ২০১২

‘এভারেস্ট জয় কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’—এই মর্মে রুল জারি

সম্প্রতি এভারেস্ট জয় করেছেন বাংলাদেশের দুই নারী। এই দুজনের বদলে যদি বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের যেকোনো দুই রাজনীতিবিদ এভারেস্ট জয় করতেন, কী ঘটত তখন? জানাচ্ছেন আলিম আল রাজি

সরকারি দল
এভারেস্ট জয় করায় সারা দেশে আনন্দ মিছিল করত ছাত্রলীগ। পাড়ায় পাড়ায় মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যেত নেতাদের। বিভিন্ন জায়গায় করা হতো সভা-সমাবেশ। সেসব সমাবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হতো। পত্রিকায় খবর আসত—এভারেস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ। নিহত ৫, আহত ৫০।
এভারেস্টজয়ীকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাতেন বিরোধীদলীয় মহাসচিব। তিনি বলতেন, ‘আসলে সরকারি দল এভারেস্ট জয় করতে পেরেছে তার মূল কারণ হলো আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন এভারেস্টে ওঠার রাস্তাটি পাকা করে দিয়েছিলাম।’
ঠিক পরের দিন সংবাদ সম্মেলন করে আগে দেওয়া ধন্যবাদ ফিরিয়ে নিতেন বিরোধীদলীয় মহাসচিব। ‘আসলে প্রথম দিন বুঝিনি মূল ব্যাপারটা। আমি আরও ভেবেছিলাম বাসার ছাদকে এভারেস্ট বলা হয়। আজ আমার বুদ্ধি বেড়েছে। বুদ্ধি বাড়ার পর এখন দেখি ঘটনা অন্য রকম। এভারেস্ট উঁচু একটা জিনিস। এটার ওপরে তিনি উঠবেন কীভাবে? এত বড় মই তিনি পেলেন কোথায়? যে দেশে কোনো উন্নয়নই নেই, সে দেশে এত বড় মই তৈরি হতে পারে না। তাই এভারেস্ট জয় পুরো ফাউল একটা ব্যাপার!’ এই মর্মে বিবৃতি দিতেন তিনি।
এদিকে এভারেস্টজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল সমাবেশ করত ছাত্রলীগ। সেখানে জয়ীকে ‘এভারেস্ট মানব, এভারেস্ট মানবী’ ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত করা হতো।
সঙ্গে সরকারের তরফ থেকে জানানো হতো, এই সরকারই আসলে এভারেস্টের মূল প্রতিষ্ঠাতা। এর আগে এভারেস্ট নামক কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। এই সরকার এসে এভারেস্ট তৈরি করেছে এবং জয় করেছে। এখন বিরোধী দল ষড়যন্ত্র করে এভারেস্ট ধ্বংস করতে চায়। তাদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
চলমান এভারেস্ট জটিলতা নিরসনে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাতেন জ্ঞানী লোকজন। ‘উক্ত সংলাপে’ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের হস্তক্ষেপও কামনা করতেন অনেকে। সংলাপে বসার ব্যাপারে শত শত শর্ত জুড়ে দিত দুই দলই।
দেশে এত পাহাড় থাকতে সরকারি দল কেন বিদেশের এভারেস্টে উঠতে গেল। এর প্রতিবাদে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকত বিরোধী দল। সরকারকে বিদেশিদের দালাল বলে আখ্যা দিত তারা। তথাকথিত এভারেস্ট জয়ের অপরাধে এই তাঁবেদার সরকারের এখনই পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করতেন বিরোধী দলের নেতারা।
এভারেস্ট জয়ের প্রতিবাদে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলত। গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ মারত বিরোধী দল। অন্যদিকে পুলিশ ভাইয়েরা বিরোধীদলীয় নেতাদের মেরে তাদের হাড্ডিগুড্ডি ভেঙে দিত।
পরিশেষে সন্ধ্যাবেলা হরতাল সফল হয়েছে এবং সরকারের এভারেস্ট জয় জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে—এই মর্মে বিবৃতি দিত বিরোধী দল। জবাবে বিরোধী দলের হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, এটা জানাত সরকারি দল।

বিরোধী দল
তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাতেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। তাঁর আশপাশে বসা থাকতেন ১৮ দলের নেতারা। ‘আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল সরকার। তাতে কী হয়েছে? আমার দল বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা এভারেস্টের চূড়ায় উঠে গিয়েছে। তাই আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। জনগণ আমাদের সাথে আছে।’ এই মর্মে বিবৃতি দিতেন তিনি।
বিরোধী দলের অন্য নেতারা জানাতেন, তাঁদের দল ক্ষমতায় এলে ঘরে ঘরে এভারেস্ট গড়ে তোলা হবে। ‘একটি বাড়ি একটি এভারেস্ট’ প্রকল্প চালু করা হবে। তখন আর কেউ একা এভারেস্টে উঠবে না। দেশের ১৫ কোটি মানুষকে নিয়ে তাঁদের সরকার এভারেস্ট জয় করবে।
আস্তে আস্তে মুখ খুলতে শুরু করত সরকারি দল। মন্ত্রীরা বলতেন, এভারেস্ট জয় এমন কোনো জরুরি ঘটনা নয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এক সভায় জানাতেন, তিনি তিন বেলা খাওয়ার আগে ও পরে এভারেস্ট জয় করেন। তা ছাড়া বিদেশিদের ‘শক্ত তরল’ খাইয়ে, ফোন করে এভারেস্ট জয় করার মূল্য নেই।

আরেক কাঠি বাড়িয়ে পরের দিন বক্তৃতা দিতেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলতেন, ‘এভারেস্ট বলে কিছু নেই। এভারেস্ট বিরোধী দলের কল্পনা মাত্র। যে জিনিসের অস্তিত্বই নেই, সেই জিনিস কীভাবে জয় করা যায়? তাই বিরোধী দলের এই দাবি অত্যন্ত ফালতু।’
‘এভারেস্ট জয় কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’—এই মর্মে রুল জারি করা হতো। তিন দিনের ভেতরে সেই রুলের জবাব দিতে বলা হতো।
সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠত বিরোধী দল। সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিবাদে এভারেস্ট অভিমুখে লংমার্চ ডাকত তারা। লংমার্চে হানা দিত পুলিশ ও ছাত্রলীগ। পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলে ফেলা হতো বিরোধী দলের নেতাদের। লংমার্চ থেকে গ্রেপ্তার করে নেওয়া হতো ৩৩ জন নেতা-কর্মীকে।
বাতিল করে দেওয়া হতো এভারেস্ট জয়। গ্রেপ্তার করা হতো এভারেস্টজয়ীকে। তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হতো তাকে। পত্রিকায় খবর আসত, ‘এভারেস্ট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সেই এভারেস্টজয়ী।’ কী সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য তা আর জানার সুযোগ হতো না কারও।

হীরক রাজার দেশে পুলিশের বেশে!!!

গবেষক: রাজামশায়, রাজ্যে এমন কী ঘটেছে, আসতে হলো আবার
গত সপ্তায় না এলাম, এর ভেতরেই নতুন কাভার?
নিশ্চয় ঘটেছে ভয়ানক কিছু, তা না হলে রাজা কেন চুপ
কী এমন ঘটেছে রাজ্যে, কেন এমন তাহার রূপ?
রাজা: চুপ করো গবেষক, সাধে কী আর ডেকেছি,
রাজ্যে এসব হচ্ছেটা কী, এই জন্য কি তোমাদের রেখেছি?
গবেষক: রাজামশায়, কী হয়েছে সবকিছু বলুন খুলে
বেশিক্ষণ ধরে রাখলে শেষে না আবার পেটটা যায় ফুলে!
রাজা: রাজ্যে এসব হচ্ছেটা কী, প্রকাশ্যে পুলিশের হাতে প্রহার
গবেষক: ওদের খাদ্যাভ্যাসে চেঞ্জ এসেছে, এখন এসবই তো আহার!
রাজা: রাজ্যের পুলিশ কী শুরু করছে এই সব
দুই দিন পর পর অভিযোগ,
আজ একে মারে তো কাল ওর গায়ে তোলে হাত
কে দিল তাদের এ সুযোগ?
গবেষক: রাজামশায়, হাসালেন, এটা কোনো ঘটনা!
এই রকম কত কিছুই তো রটে, নাকি রটে না?
পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে হাত তুলেছে গায়,
এ নিয়ে টেনশন করা কি রাজার শোভা পায়?
রাজা: ছিঃ ছিঃ! আমার রাজ্যের পুলিশ এতই বোকা!
সামান্য কটা ঘটনা দিতে পারে না ধামাচাপা
এত এত ঘটনা চোখের সামনে তুলে রেখে
শেষে কিনা পচা শামুকে কাটলি দু-পা!
গবেষক: এই নিয়ে আপনি মোটেও নেবেন না পেইন,
হীরক রাজ্যে নতুন মন্ত্র—নো পেইন, অনলি গেইন!
রাজা: তা না হয় মানলাম কিন্তু এত কিছু কেন শুনি
রাজ্যে কেন চলছে এই সব নিয়ে কানাকানি!
জলদি করে বলে দাও, স্বয়ং রাজা চায় এর বিচার
আপাতত কাজ চালাতে এক-এ এক-এ মিলিয়ে দাও চার!
গবেষক: পুলিশের বিচার করবে পুলিশ!
পুলিশে পুলিশে জ্ঞাতি ভাই,
কাকের মাংস কাকে খায় না
ইহার উপর সত্য নাই!
রাজা: সত্য-মিথ্যা জানি না, একটা কিছু করো,
ভালো-খারাপ বুঝি না, আপাতত কজন ধরো!
গবেষক: পুলিশ এখন চলে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে,
রাজা: পুলিশকে কন্ট্রোল করার হিম্মত কি কারও নাই রে!
গবেষক: পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরে থাকতে
পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী,
রাজা: পুলিশ কি আর মানুষ নেই!
যন্ত্র-মানব নাকি ষড়যন্ত্রী?
গবেষক: রাজামশায়, রাজ্যের যত বড় বড় পুলিশ
শুনেছি সবার নাকি রাজার এলাকায় বাড়ি,
এটা কি রাজার নতুন কোনো শখ
নাকি অন্য এলাকার পুলিশগুলো আনাড়ি!
রাজা: কে বলে এসব কথা, কোত্থেকে বয় এই বাতাস?
ভেবেছ কী, ভাত না খেয়ে হীরকের রাজা খায় শুধু ঘাস?
গবেষক: রাজামশায়, মাফ করবেন, এতটা লাগবে বুঝিনি,
আপনার সাথে থাকি তো, টক-ঝাল বুঝি না, বুঝি শুধু চিনি!
রাজা: হীরকের দেশে পুলিশের বেশে কে হাসে ওই ভয়ানক হাসি?
গবেষক: আর কে মশায়, জামাটা খুললেই তো সেই পুরোনো-বাসি!
আচ্ছা, রাজামশায় কি পড়েছেন বইটা, ফ্রাংকেনস্টাইন নাম তার
রাজা: কী আছে ওতে, হঠাৎ এ বইয়ের কেন অবতার?
গবেষক: সেখানে ছিল এক পাগলা ডাক্তার,
মানুষ মেরে বেশ নামডাক তার।
রাজা: দেখেছ, মানুষ মারলেও নাম-ডাক হয়!
গবেষক: কিন্তু সেই নাম আর কয়দিনই বা রয়!
মৃত জোড়া দিয়ে সে বানিয়েছিল এক প্রকাণ্ড দানব
ভেবেছিল ওটা কথা শুনবে, হায়রে বোকা মানব!
রাজা: কী? কথা শোনেনি, এত বড় স্পর্ধা ওই সামান্য দানবের!
গবেষক: জি, নিজের তৈরি দানবই জান নিয়েছিল মনিবের!
রাজা: এতক্ষণে বুঝলাম, কিছু একটার ইঙ্গিত আছে তোমার কথায়,
ঝটপট বলে ফেলো, দেখি লুকিয়ে রেখেছ কোথায়?
গবেষক: রাজা দেখি আজকাল ইঙ্গিতও বোঝেন
আর কদিন পর তো হয়ে উঠবেন আইনস্টাইন,
শুধু এটা বোঝেন না, এই পোষা পুলিশগুলো
একদিন হয়ে উঠতে পারে ফ্রাংকেনস্টাইন!
রাজা: হীরকের রাজ্যে দানব আসবে?
রাজার চেয়ে বড় দানব আছে নাকি তল্লাটে!
কি, ঠিক কি না?
গবেষক: ঠিক ঠিক
এলে আসুক, আমরাও গুনে দেখব
কত বড় মাইক আছে কার কল্লাতে!
রাজা: শাট আপ, চুপ করো, ব্যাটা গবেষক
ভয় করছে, দরজায় কে যেন করল নক!
গবেষক: ছিঃ ছিঃ! রাজামশায়, ভয় পেলে কি চলবে?
হীরকের রাজা ভয় পেলে লোকে কী বলবে!
রাজা: লোকের কথার খেতা পুড়ি, আছে তো বেশ সুখে
জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে পুরব সবাই মুখে!
গবেষক: রাজা কিন্তু ভুল করছেন, জনগণের কথা ভাবুন
পুলিশের হাতে তুলে দেবেন না সব ক্ষমতা
যার যা প্রাপ্য ততটুকুই দিন তাকে
একবার স্বাদ পেলে কেউ ছাড়তে পারে না এর মমতা!
রাজা: বাদ দাও ওসব ফোরকাস্টিং শক
আমি আজ যাই গবেষক, মাথাটা করছে ঝিমঝিম!
গবেষক: আপনি রেস্ট নেন, পুলিশের বিষয়টা দেখছি,
দেখি ব্যাটারা কত দূর যায়, আর কী কী করে ঘোড়ার ডিম!
তবে পুলিশের এই নির্যাতনের কথা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত!
ওরা আসলেই আর মানুষ নেই, মস্তিষ্কবিকৃত!


http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-06-04/news/262989

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১২

সরকারের তাহলে ভয় কিসের!!!

ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, কোনো বিশেষ দলের সঙ্গে নয়। তিনি বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে ভারত সফরেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রণবের প্রথম বাংলাদেশ সফরকালে যে শীতল মনোভাব বিএনপির প্রতি দেখানো হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রণব, হিলারি এবং সবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে দুটো বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এক. রাজনৈতিক সমঝোতা এবং দুই. সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। দুটো বিষয়ের মূল লক্ষ্য অভিন্ন: তা হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান। বাংলাদেশে এখন যত রকম রাজনৈতিক হানাহানি হচ্ছে, তার মূলেও রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখা না-রাখা নিয়ে বিরোধ।
অশক্ত গণতন্ত্রের একটি দেশ হিসেবে এই বিরোধ অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের দেশে শাসকগোষ্ঠী ‘অলটেরোকেসি’ বা ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাস করে না। নির্বাচনে কারচুপি যতভাবে করা সম্ভব, তার মাধ্যমে জনগণের রায়কে ছিনতাই করার চেষ্টা এসব দেশে থাকে। বাংলাদেশে এটি চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছিল বলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব অরাজনৈতিক কিছু নাগরিকের কাছে প্রদান করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সমঝোতাকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা সম্ভবত সফল হবে না। আন্তর্জাতিক মহলও সে রকম ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত।

২.
গণতন্ত্র মানে যদি হয় জনগণের ম্যান্ডেট, সে ম্যান্ডেট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে এখনো রয়েছে। জাতীয় পার্টি ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দল এই সরকারব্যবস্থার পক্ষে ছিল। জাতীয় পার্টির নেতারা ১৯৯১ সালে অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে সংগত কারণে এর বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। সেই দলের নেতা এরশাদ পর্যন্ত জনগণ চাচ্ছে বলে তাঁর দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রাজি আছে বলেছেন সাম্প্রতিক কালে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দেশে এত সংঘাত হওয়ারও কথা ছিল না। সরকারে থাকা অবস্থায় ২০১০ সালে সংসদীয় কমিটির সঙ্গে সংলাপে স্বয়ং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংস্কার সাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মতামত জানিয়েছে। শেখ হাসিনা নিজে ১৯৯১ সালের নির্দলীয় সরকার, পরের দুটো তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৭ সালের ‘অস্বাভাবিক’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর এই অবস্থানে পরে বিচ্যুতি না ঘটলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে দেশে কোনো সংঘাত সৃষ্টির কারণ হয়তো থাকত না।
প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগ কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে এখন রাজি নয়? এর সহজ উত্তর হতে পারে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার প্রবল ভীতি। বিদেশি ‘বন্ধুরা’ সামনের সময়ে হয়তো আরও স্পষ্ট করে বলবেন, দেশে এখনি ড. কামাল হোসেন, ড. ইউনূস, ড. আবেদের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি থেকে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ (প্রথম আলোর ৯ মের জরিপ অনুসারে ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ) বলছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। সুপ্রিম কোর্টের যে আদেশের খণ্ডিত ও একপেশে প্রয়োগ করে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপকে যৌক্তিক করতে চায়, সেখানেও জনগণ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী দুটো নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। আওয়ামী লীগ তবু রাজি নয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারে। সর্বশেষ যা খবর, এ নিয়ে এমনকি কোনো সংলাপে বসতেও রাজি নয় দলটি।
সরকারি দলের কেন এই অনড় অবস্থান? একটি সফল সরকারের তো সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি ভীতি থাকার কথা নয়। আমরা পত্রিকায় দেখি, সরকারের মন্ত্রীরা সবাই নিজেকে সফল ভাবেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেন, চালচলনে সবাই স্যুটেড-বুটেড না হলেও তাঁর সব মন্ত্রীই সফল। আজকের পত্রিকায় দেখি, দেশে এমন এক গুম আতঙ্কে গুমোট সময়ে সাহারা খাতুন বললেন: তিনি অবশ্যই সফল!
আবারও বলি, এত সফল একটি সরকারের তো নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভয় পাওয়ার কথা নয়! তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এর আগে মহাব্যর্থ কিছু সরকার অংশ নিয়েছিল। তারা প্রত্যেকেই পরাজিত হয়েছিল। গত বিএনপি সরকারের ভরাডুবিই ঘটেছিল ২০০৮ এর নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ কি নিজেদের ব্যর্থতার কারণে এমন পরিণতির আশঙ্কা করছে? একমাত্র এই আশঙ্কা থাকলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে তাদের প্রবল বিরোধিতা আমাদের কাছে বোধগম্য হতো।
কিন্তু আমরা প্রকাশ্যে তাদের কোনো ব্যর্থতা স্বীকার করতে দেখি না। এ জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাদের মনস্তত্ত্ব আরও দুর্বোধ্য হয়ে পড়ছে।

৩.
প্রকাশ্যে আমরা আওয়ামী লীগকে বলতে শুনি শুধু তাদের সফলতার কথা। এর কারণ হতে পারে এই যে, সাধারণ মানুষ যেভাবে সফলতার মানে বোঝে, তার চেয়ে সরকারি দলগুলোর বোঝাটার ভঙ্গিটি ভিন্ন ধরনের। যেমন: আমরা যখন ইলিয়াসের গুম হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি, সরকারের লোকজন হয়তো ভাবছেন ড. কিবরিয়া বা আহসানউল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ডের তুলনায় এটি তেমন কোনো বিষয় নয়। আমরা যখন ড. ইউনূসের অপমানে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে ভাবি, তাঁরা হয়তো ভাবেন প্রধানমন্ত্রীর শান্তির মডেল উত্থাপন বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়! আমরা যখন নদী শুকিয়ে যাচ্ছে বলে হাহাকার করে উঠি, তাঁরা হয়তো ভাবেন সমুদ্রজয়ের পানি দিয়ে সমাধান হয়ে যাবে সব সমস্যার। আমরা যখন কর্মসংস্থান বা বিনিয়োগ-পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, তাঁরা তখন শুধু জিডিপির গতি দেখেই তৃপ্ত থাকেন।
আমাদের চেয়ে তাঁদের দেখার চোখ ভিন্ন। দলীয়করণকে তাঁরা হয়তো ভাবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের’ লোকের মূল্যায়ন, দুর্নীতিকে ভাবেন দেশসেবার কারণে অর্জিত অধিকার বা ধনতন্ত্রের জন্য মূলধন পুঞ্জীভূতকরণ, রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে ভাবেন মহৎ প্রতিশোধ, শেয়ারবাজার লুট করাকে ভাবেন চতুর মানুষের অর্জন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি মানে ভাবেন বাজার অর্থনীতি!
সরকারি দল নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো করে শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য, আমরা ভুল করে ভাবি তা বাস্তবায়নের জন্য। সরকারি দল দিনবদল মানে ভাবে শাসকগোষ্ঠী আর তার অনুগতদের দিনবদল, আমরা ভাবি সবার জন্য দিনবদল। সরকার ভাবে দেশটা সরকারি দলের, আমরা ভাবি জনগণের। সরকার ভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মানে ভারত, আমরা ভাবি অন্যরাও।
বোঝার ক্ষেত্রে এই মনস্তাত্ত্বিক পার্থক্য সত্যি না হলে সরকার আর আমাদের মূল্যায়ন এত ভিন্ন হওয়ার কারণ নেই। আমার কথা হচ্ছে, সরকারের আত্মমূল্যায়ন সঠিক হলে সুষ্ঠু আর অবাধ নির্বাচনে তাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আর এমন নির্বাচন কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হওয়া সম্ভব।

৪.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি অনীহার একটি কারণ আমরা সরকারের নীতিনির্ধারকদের মুখে শুনি। তাঁরা ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ টেনে সে সময় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলাদের প্রতি নিপীড়নের কথা বলেন। এই অভিযোগ অমূলক নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে সংবিধান-বহির্ভূতভাবে বহুদিন ক্ষমতায় ছিল, এটিও সত্যি। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট একটি সরকার। এ ধরনের পরিস্থিতির মূল কারণ ছিল বিএনপি কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মোড়কে একটি অনুগত নির্বাচন প্রশাসন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থাপনের চেষ্টা। সেই চেষ্টা সহিংসভাবে ঠেকাতে গিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল, এর পরিণতিতে সৃষ্ট অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সদলবলে অভিনন্দিত করেছিলেন দলটির সভানেত্রী। একইভাবে বর্তমান সরকারি দলও কারসাজির নির্বাচন করতে গেলে তা যেকোনো মূল্যে বর্তমান বিরোধী দল প্রতিহত করার চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক।
এই অনিবার্য সংঘাত এড়ানোর একমাত্র সমাধান হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন (এবং ২০০৬ সালের মতো তা টেম্পারিং করার চেষ্টা না করা)। এ জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। কিন্তু আমার মতে, সরকার নিজে থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে সংলাপেরও তেমন প্রয়োজন নেই। এই উদ্যোগের ভিত্তিতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে ত্রুটিগুলো রয়েছে (যেমন: এর গঠন, কার্যকাল এবং ক্ষমতাসংক্রান্ত), তা দূর করে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব নয়।
এ জন্য অতিকেন্দ্রীভূত বর্তমান সরকারব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারপ্রধানের সদিচ্ছা। এই সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে অতীতে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কোনো নজির আমরা পাইনি। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কিছু সফল সংলাপ হয়েছিল। কিন্তু ৯০-পরবর্তী গণতন্ত্র পুনরুত্থানের যুগে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নজির সম্ভবত আর নেই। বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তাসহ বহু বিষয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সরকার সেই মতৈক্যের গুরুত্ব অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রদান করেনি। এটি প্রমাণ করে, সরকারপ্রধান না চাইলে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে প্রকৃত সমাধানের সম্ভাবনা তেমন নেই বাংলাদেশে।
আমরা সেই সদিচ্ছার প্রত্যাশা করি। দলীয় সরকারের মাধ্যমে একতরফা নির্বাচন বাংলাদেশে অতীতে হয়েছে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এমন নির্বাচনগুলো হয়েছে জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় থেকে। আগামী নির্বাচনও এভাবে করার উদ্যোগ নিলে মানুষ সেই ভয়ের গন্ধ পাবে। আমার মনে হয় না, জনগণকে ভয় পেয়ে বা ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।
জনগণের সঙ্গে এমন ভয়ের সম্পর্ক যদি না থাকে, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রবর্তনে সরকারের রাজি হওয়া উচিত। সেটি যত তাড়াতাড়ি হবে, ততই মঙ্গলজনক।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-11/news/256731

রবিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১২

20 essential PC shortcuts

  • Copy a selected item: Ctrl+C
  • Cut a selected item: Ctrl+X
  • Paste a selected item: Ctrl+V
  • Undo an action: Ctrl+Z
  • Redo that thing I just undid: Ctrl+Y
  • Select everything: Ctrl+A
  • Print: Ctrl+P 
    • Switch between open windows
    Alt+Tab 
    •  Clear away everything and show the desktop
    Windows logo key Picture of the Windows logo key+D 
    •  Minimize the window
    Windows logo key Picture of the Windows logo key+Down Arrow
    •   Maximize the window
    Windows logo key Picture of the Windows logo key+Up Arrow
    •  Compare and contrast in a snap
    Windows logo key Picture of the Windows logo key+Left Arrow or Right Arrow
    •  Multitask with multiple monitors
    Windows logo key Picture of the Windows logo key+Shift+Right Arrow or Left Arrow
    •  Open Task Manager
    Ctrl+Shift+Esc
    •  Choose a presentation display mode
      Windows logo key Picture of the Windows logo key+P
    •  Zoom in, zoom out
    Windows logo key Picture of the Windows logo key+Plus Sign or Minus Sign
  •  Search for files and folders
    Windows logo key Picture of the Windows logo key+F
    •  Open a new instance of a program
      Windows logo key Picture of the Windows logo key+Shift+Click a taskbar icon
    •  And when you need it...get help
      Windows logo key Picture of the Windows logo key+F1
     

শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১২

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বৈধতা!

রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় দণ্ড মওকুফ পাওয়া ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট একটি নতুন আইনি ধারা উন্মোচন করলেন। ৪০ বছর ধরে আমাদের ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার এখতিয়ারের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভবত এটাই প্রথম রায়, যেখানে পরোক্ষভাবে হলেও প্রমাণিত হলো যে ৪৯ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে আদালতের নজরদারি রহিত করা যাবে না। তাই এই রায় একটা বিরাট বিচারিক অগ্রগতি।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২৫ এপ্রিল প্রায় ১৯ বছর আগে তথ্য গোপন করে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমা উল্টে দিয়েছেন। দণ্ডিতকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকারও বিচার বিভাগীয় এখতিয়ারভুক্ত।
মনে করা হয়, একজন বিচারক যতই প্রশিক্ষিত ও দক্ষ হোন না কেন, এমন বিরল মুহূর্ত আসতে পারে, যখন তিনি হয়তো কাউকে ভুলভাবে দণ্ড দিলেন। নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সে কারণে ক্ষমা বা দণ্ড হ্রাসের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে এর অপব্যবহার চলছে। একজন পলাতক আইনের আশ্রয়লাভের অধিকারী নন। কক্সবাজারের ওই মামলায়ও দণ্ডিত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের সময় আইনের দৃষ্টিতে পলাতক ছিলেন।
বিচার বিভাগ নিয়ে যাঁরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন, আমরা তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এই মামলায় হাইকোর্টের বেঞ্চ হয়তো তাঁদের এখতিয়ার নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিলেন। কারণ, তাঁদেরটি রিট বেঞ্চ ছিল না, ছিল ফৌজদারি কার্যবিধিনির্ভর। সে কারণে ৪৯ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে ধরনের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত রায় ও নির্দেশনা আমরা আশা করেছি, সেটা হয়তো পুরোমাত্রায় অর্জিত না-ও হতে পারে। কিন্তু কোনো রিট বেঞ্চে জনস্বার্থে মামলা হলে আমরা তা পাওয়ার আশা করতে পারি।
ওই মামলার নথি নিখোঁজ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস কীভাবে, কী সুপারিশ করেছিলেন, তা অজানা। আমরা আশঙ্কা করি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নথি খোয়ানোর জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন। কিন্তু জনগণের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমেনি। গত ৪০ বছরে কতজন ক্ষমা পেয়েছেন এবং তার নথি ব্যবস্থাপনার কী হাল, তা আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই।
ফাঁসির আসামি ঝিন্টু এবং লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগের নেতা আবু তাহেরের ছেলের দণ্ড মওকুফের বৈধতা সন্দেহাতীতভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য। আমরা আশা করব, এই রায়ের আলোকে সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল এর প্রতিকার চাইতে আদালতের শরণাপন্ন হবে। এই মাইলফলক রায় প্রমাণ করেছে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদকে যান্ত্রিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। উত্তম নজির হিসেবে এ রায়টি অনুসরণীয় হোক।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-27/news/253341

বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১২

চীনা সেনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

পিপলস লিবারেশন আর্মির কয়েকজন সদস্য পিপলস লিবারেশন আর্মির কয়েকজন সদস্য
ছবি: রয়টার্স
চীনের বিপুল অস্ত্র ও বিশাল সেনাবাহিনী আসলে কার নিয়ন্ত্রণে? আন্তর্জাতিক মহলে এ আগ্রহ অনেকের। কে বা কারা চীনের বন্দুক ও যুদ্ধজাহাজ নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটা পরিষ্কার করলে ক্রমবর্ধমান এই সেনাবাহিনী নিয়ে বাইরের মানুষের ভয় থাকত না। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে একমাত্র চীনেই পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নামে একটা সশস্ত্র সংগঠন রয়েছে, যেটা আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের কোনো অংশের মধ্যে পড়ে না। এটা কেবল সে দেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে দায়ী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, বরং পার্টির কেন্দ্রীয় সেনা কমিশন নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনীকে। যদিও চীনে কাজে-কর্মে ক্ষমতাসীন পার্টি ও সরকার প্রায় কাছাকাছি, তার পরও পার্টির কাজকর্ম বেশ দুর্বোধ্য। এই পার্টিই পিএলএর বিষয়টি ঘোলাটে করে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যকার সুসম্পর্ক এই দুর্বোধ্যতা দূরীকরণে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু তাইওয়ানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করলে পিএলএ শাস্তিস্বরূপ দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া দুই দেশের সেনাদের সম্পর্ক গভীর হলে মার্কিনিরা আবার লাভবান হয় কি না, সে বিষয়েও পিএলএ উদ্বিগ্ন থাকে। তাই এসব নানা অনিশ্চিত সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে কেউ মনে করতে পারেন, চীনের অবস্থান শান্তির পক্ষে। আবার কেউ কেউ এর উল্টোও ভাবতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী থিংক-ট্যাংক, দ্য সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড বাজেটারি অ্যাসেসমেন্টস (সিএসবিএ) বলছে, চীনের মতো একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার মুহূর্তেই মত পাল্টাতে পারে।
অনেক দিন আগে থেকেই চীন তার সামরিক শক্তি বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৫০-এর দশকে দেশটি প্রথম এ কাজে হাত লাগায়। সে সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল তার অন্যতম প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী। কিন্তু ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মাও সেতুংয়ের দশকব্যাপী সাংস্কৃতিক অভ্যুত্থানের সময় সামরিক শক্তি বাড়ানোর কাজটি অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিতর্কিত সীমানা নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে প্রায় যুদ্ধ বেধে যাচ্ছিল এবং ঠিক তখনই চীন প্রথম সফলভাবে তার পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। আশির দশকে দেং শিয়াও পেংয়ের নেতৃত্বে সামরিক শক্তি আধুনিকায়নের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। দেং চেয়েছিলেন পুরো দেশকেই ঢেলে সাজাতে। সেখানে বাদ যায়নি সেনাবাহিনীও। কিন্তু তিনি পিএলএকে বলেছিলেন, দেশের অর্থনীতিই তাঁর সরকারের প্রথম পছন্দ এবং জেনারেলদের অবশ্যই জিডিপির ১.৫ শতাংশ বাজেট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
নব্বই দশকের গোড়ার দিকে আধুনিকায়নের তৃতীয় পর্যায় শুরু হয়। ১৯৯১ সালে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের উচ্চপ্রযুক্তির ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্রের মারাত্মক প্রভাব দেখে চীন উপলব্ধি করে, সম্মুখযুদ্ধ তথা স্থলযুদ্ধের দিন শেষ।
পিএলএর বিশেষজ্ঞরা বেইজিংয়ের অ্যাকাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সে বসে মার্কিন থিংক-ট্যাংকদের প্রবর্তিত তথাকথিত ‘রেভল্যুশন ইন মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স’ (আরএমএ) বিষয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করতে থাকেন। আরএমএ হলো কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত কৌশল এবং অস্ত্রশস্ত্রের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন। বেইজিংয়ের ওই অ্যাকাডেমিতে অতি সম্প্রতি প্রতিরক্ষা-বিষয়ক প্রধান চারটি শ্বেতপত্রের প্রণেতা জেনারেল চেন ঝোউ লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকাকে বলেছেন, ‘আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আরএমএ পড়েছি। আমাদের কাছে মহানায়ক হলেন অ্যান্ডি মার্শাল, যিনি পেন্টাগনের প্রধান ভবিষ্যবাদী হিসেবে পরিচিত। আমরা তাঁর লেখা প্রতিটি শব্দ অনুবাদ করে পড়েছি।’
১৯৯৩ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক জিয়াং জেমিন আরএমএকে দেশটির সামরিক কৌশলের কেন্দ্রে স্থাপন করেন। যার ফলে এখন পিএলএ অনুভব করছে, উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা আঞ্চলিক যেকোনো যুদ্ধে সফল হতে পারে। দেশটির ব্যয়বহুল সামরিক খাতের বাজেটের বেশির ভাগ গেছে এখন পর্যন্ত বিমান, নৌ ও গোলন্দাজ বাহিনীর পেছনে, যারা কিনা চীনের পারমাণবিক ও প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করে।
২০০২ ও ২০০৪ সালের দিকে আরও উন্নয়ন ঘটে সামরিক শক্তির আধুনিকায়নে। জেনারেল চেন বলেন, ২০১০ সাল পর্যন্ত আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর ভিত গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী দশকে তাদের সমন্বিত কার্যকলাপ দেখা যাবে। যেখানে থাকবে কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশনস ও কম্পিউটারের সমন্বয়ে সম্মিলিত নেটওয়ার্ক। ২০২০ সালের মধ্যেই চীনের সেনাবাহিনী এ লক্ষ্য অর্জন করতে যাচ্ছে। তবে চেন স্বীকার করেন, পশ্চিমাদের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তি অর্জন করতে তাদের আরও কিছু সময় লাগতে পারে। তার পরও ২০১০ সালে সিএসবিএ জানায়, আগামী ১০ বছরের মধ্যেই চীন প্রয়োজনীয় বেশকিছু সামরিক সরঞ্জামের অধিকারী হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইট ও গোপন প্রযুক্তি, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ও জাহাজবিধ্বংসী হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র, ৬০টিরও বেশি গোপন ডুবোজাহাজ, কমপক্ষে ছয়টি পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ ডুবোজাহাজ, চালকসহ ও চালকবিহীন গোপন যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আকারে ছোট হলেও বিমানবাহী কয়েকটি রণতরীও সমুদ্রে ভাসাতে যাচ্ছে। যদিও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য দেশটিকে আরও বেশ কয়েক বছর চেষ্টা করতে হবে।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-24/news/252707

শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১২

ঈশ্বরের সন্ধানে!!!

আলম সাহেব। কাজী আলম তালুকার। একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। তার দলের লোকদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। তবে এলাকার লোকজনদের কাছে তিনি ‘ধনপ্রিয়’, মানে ধনসম্পদের দিকে তার প্রচুর আগ্রহ এবং এ কারণে তিনি এখন প্রাইভেট ব্যাংক, পত্রিকা, চ্যানেলের মালিক আর গার্মেন্ট ইত্যাদির তো কোনো হিসাব নেই। সবই ঠিক ছিল, কিন্তু হঠাত্ করে তিনি আবিষ্কার করলেন তার গলার কাছে সব সময় কেমন যেন আইঢাই করে! একদিন তিনি গেলেন এক নাক-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে। এই বিশেষজ্ঞের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে তিনদিন লাগে। তবে আলম সাহেবের ব্যাপার আলাদা। তিনি ঠিকই তার প্রভাব খাটিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট জোগাড় করলেন। গেলেন একদিন ডাক্তারের কাছে।
-কি সমস্যা? বুড়ো ডাক্তার ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন তার দিকে
-সমস্যাটা গলায়।
-কি রকম সমস্যা?
-মানে গলার কাছে সবসময় কেমন আইঢাই করে।
-আইঢাই কি?
-মানে কিছু একটা আটকে আছে এমন একটা ভাব...
-হুম... বুড়ো বিশেষজ্ঞ নাক-কান-গলার ডাক্তার ছোট্ট একটা টর্চ দিয়ে গলার ভেতরটা দেখার চেষ্টা করলেন। গলা টিপে-টুপে দেখলেন। তার খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন করলেন, তারপর বললেন—
-আপনার রোগটা ধরতে পেরেছি।
-কি রোগ ডাক্তার সাহেব?
-এটাকে বলে খাই খাই রোগ।
-মানে? এবার আলম সাহেবের ভ্রূ জোড়া কুঁচকে যায়।
-বুঝলেন না? আপনি তো রাজনীতি করা লোক, তাই না? দেশের জনপ্রিয নেতা। অনেক খেয়েছেন... এতই বেশি খেযেছেন যে, গলার কাছে এখন সব আটকে গিয়ে আপনার ভাষায় গলা আইঢাই করছে।
-কি বলছেন এসব?
-ঠিকই বলছি... আপনার আসলে গলায় কোনো রোগ নেই... মানসিক রোগ... সারাজীবন খাই খাই রাজনীতি করেছেন, এখন তার ফল এই আইঢাই...
বাড়ি ফিরে এসে আলম সাহেবের মনে হলো গলার আইঢাই ভাবটা আরও বেড়েছে। এর মানে কি? তবে ডাক্তার ঠিকই বলেছেন। সে রাতে তিনি ভালো করে ঘুমুতে পারলেন না। এপাশ-ওপাশ করলেন শুধু। একপর্যায়ে স্ত্রী বিরক্ত হয়ে বলেই ফেললেন, ‘কি হলো বিছানায় শুয়ে লাট্টু’র মতো ঘুরছো কেন?
-লাট্টুর মতো ঘুরছো মানে?
-তাই তো ঘুরছো... দেশের মানুষকেও ঘোরাও, ইদানীং দেখছি নিজেও ঘুরছো... আরও কি সব বলে গজগজ করতে করতে ঘুমিয়ে গেলেন স্ত্রী। তিনি জনগণকে লাট্টুর মতো ঘুরান? স্ত্রীর বাক্যটা যেন ঘৃতে অগ্নিসংযোগ ঘটাল, তার মাথার ভেতরটা গরম হয়ে গেল, তার ইচ্ছে হলো স্ত্রীকে কয়েকটা কড়া কথা বলবেন—তা না বলে তিনি উঠে বসলেন। বিছানা থেকে নেমে ড্রইংরুমে গিয়ে বসলেন। তারপর কি মনে করে দরজা খুলে নিঃশব্দে গেটের কাছে এসে দেখেন, কম বয়সী দারোয়ান ছেলেটা টুলে বসে আছে। তিনি আশা করেছিলেন, এসে দেখবেন দারোয়ান ছেলেটা ঘুমুচ্ছে এবং একটা ধমক দেবেন। স্ত্রীর ওপর রাগটা ওর ওপর ঝাড়বেন। কিন্তু ছেলে জেগে আছে। তাকে দেখে টুল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিল। রাত তখন আড়াইটা।
-তুমি রাতে ঘুমাও না?
-জি না স্যার।
-সত্যি ঘুমাও না?
-না স্যার। রাতে ঘুমালে ডিউটি হবে কেমনে?
আলম সাহেবের হঠাত্ মনে হলো এই বাচ্চা ছেলেটা যার বেতন মাত্র এক হাজার টাকা, সে তার বাড়ি পাহারা দেয় রাত জেগে আর তিনি ভেতরে এসির মধ্যে ঘুমান!
-যাও তুমি আজ ঘুমাতে যাও, আমি এখানে বসি।
-কি বলছেন স্যার? আপনি এই টুলে বসবেন?
-হ্যাঁ যাও... তুমি আজ ঘুমাও। আমার বাড়ি আজ আমিই পাহারা দেই। ছেলেটি অস্বস্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আর শক্ত টুলটায় তিনি সত্যি সত্যি বসেন।
-কি হলো, যাও বলছি।
দারোয়ান ছেলেটি কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। তারপর চলে গেল। টুলে বসে থাকলেন দেশের জনপ্রিয় নেতা কাজী আলম তালুকদার। ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। আকাশে গোল একটা চাঁদ। গলার কাছটা আইঢাই করছে। তিনি কি সত্যিই বেশি খেয়ে ফেলেছেন?... আর তখনই তিনি একটা ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি যা খেয়েছেন, সব উগরে দিবেন। হ্যাঁ, কালই তিনি সব উগরে দিবেন। সত্যিই দিবেন।
সারা দেশে হইচই। দেশের জনপ্রিয় নেতা কাজী আলম তালুকদার তার সব সম্পদ রাষ্ট্রকে বুঝিয়ে দিয়ে দেশ ছেড়ে হিমালয়ের দিকে রওনা দিয়েছেন। খবর পেয়ে দেশের ঊনত্রিশটা চ্যানেল ছুটে এলো।
-স্যার, আপনি সত্যিই হিমালয়ের গুহায় চলে যাচ্ছেন সব ত্যাগ করে?
-হ্যাঁ, সত্যি।
-কিন্তু কেন স্যার?
-আমি হিমালয়ের গুহায় বসে ঈশ্বরের সন্ধান করব।
-এতদিন তাহলে কিসের সন্ধান করেছেন?
-এতদিন সম্পদের পেছনে ছুটেছি... জনগণকে ধোঁকা দিয়েছি, লাট্টুর মতো ওদের ঘুরিয়েছি... তাই হঠাত্ ঠিক করলাম...
-আপনার এই বোধোদয় হওয়ার কারণ?
-কোনো কারণ নেই, আমার গলার কাছটা আইঢাই করত... তারপর...
ঊনত্রিশ চ্যানেলকে বিদায় করে... বর্ডার ক্রস করে, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে তিনি উপস্থিত হলেন হিমালয়ের এক গুহায়। সেখানে আগে থেকেই এক সাধু বসে আছে। সাধুর সামনে একটা ল্যাপটপ!
-কি চাস এখানে? সাধু হুঙ্কার দিল।
-জি আমি ইশ্বরের সন্ধানে এসেছি।
-ওরে বোকা ঈশ্বরের সন্ধান পাওয়া এত সোজা? আমি কত বছর ধরে চেষ্টা করছি... এক্সেস ডিনাইড বলছে।
-কি বলেন? গুহায় বসে আপনি ল্যাপটপে ঈশ্বরকে খুঁজছেন?
-আরে ভাই টানা ১০ বছর ধ্যান করে দেখেছি লাভ হয়নি। তাই আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে চেষ্টা করছি... গড ডট কমে ঢুকে চেষ্টা করলাম অনেকক্ষণ, এক্সেস ডিনাইড বলছে। গুগলেও চেষ্টা করেছিলাম।
-জনাব আমার একটা প্রশ্ন ছিল।
-বলে ফেলুন।
-আপনি কেন গুহায় বসে ঈশ্বরের সন্ধান করছেন?
-আরে ভাই, আগে আমি ভালোই ছিলাম। বেশ ভালো ছিলাম... নিজের দেশে গাড়ি-বাড়ি, নারী, ফ্ল্যাট, গার্মেন্ট সবই ছিল... কিন্তু হঠাত্ আবিষ্কার করলাম গলার কাছটা কেমন আইঢাই করছে... তারপর...
-বুঝতে পেরেছি, আর বলতে হবে না।
কাজী আলম তালুকার ফিরে চলেছেন তার দেশে নিজ বাসভূমে। তিনি ঈশ্বরকে পেয়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন ঈশ্বর আসলে মানুষের ভেতরেই বাস করেন। তাকে খুঁজে পেতে হিমালয়ের গুহা জরুরি নয়। তিনি তার মানুষের কাছে ফিরে চললেন... তিনি টের পেলেন তার গলার ভেতর সেই আইঢাই ভাবটা আর নেই...! হ
 
আ হ সা ন হা বী ব.
 
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/04/14/140894