Powered By Blogger

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১১

প্রাপক কি ই-মেইলটি পড়েছেন?


আপনার ই-মেইলটি প্রাপক পড়েছেন কি না সেটি সাধারণত জানার উপায় থাকে না। যদি এমন হতো যে আপনার ই-মেইলটি প্রাপক পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার কাছে একটি নোটিফিকেশন চলে আসবে এবং সেটাতে লেখা থাকবে প্রাপকের মেইলটি পড়ার সময়, অবস্থান, আইপি ঠিকানা, কতবার পড়েছেন, ব্রাউজার নেম, অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে কেমন হতো?
এই কাজটি চাইলেই করতে পারেন।এ জন্য প্রথমে www.spypig.com/farm/signin.php ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে Sign up Now-এ ক্লিক করে নিবন্ধন করে সাইন-ইন করুন। তারপর ১. Your email address-এ আপনি যে মেইল ঠিকানায় ই-মেইলটি পড়ার নোটিফিকেশন পেতে চান সেটি লিখুন। ২. Your message title-এ আপনার ই-মেইলের সাবজেক্ট নাম লিখুন। ৩. Select your SpyPig tracking image থেকে কোনো একটি ছবি নির্বাচন করে নিচের বাটনে ক্লিক করুন। এখন ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে নিচের ছবিটি কপি করে ই-মেইল মেসেজের মধ্যে (বডি) পেস্ট করে আপনার ই-মেইলটি পাঠিয়ে দিন। এখন থেকে প্রাপক মেইলটি পড়লে সঙ্গে সঙ্গে SpyPigÊNotificationÊ নামে একটি মেইল আসবে আপনার ই-মেইলে।সেটিতে লেখা থাকবে প্রাপকের মেইলটি পড়ার সময়, অবস্থান, আইপি ঠিকানা, কতবার পড়েছেন, ব্রাউজার নেম, অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি। —মো. আমিনুর রহমান

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

লজ্জাবোধ

১৯৪৭ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানে আমদানি-রফতানির সুবিধার্থে ভারত সরকারের কাছে সাময়িকভাবে কলকাতা বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব করলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু অবজ্ঞাভরে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন,

"এটা এক অদ্ভুত রাষ্ট্রের আজব দাবি। একটি বিদেশি রাষ্ট্রের ভেতর দিয়ে তাদের দেশে যাওয়ার জন্য পথ, এটা নজিরবিহীন।"

আজ সেই পণ্ডিত নেহরুর বর্তমান প্রজন্ম বাংলাদেশের কাছে একাধিক চিরস্থায়ী করিডোর প্রাপ্তির আজবতর দাবি করতে এতটুকু লজ্জাবোধ করছে না, এটাই আশ্চর্য!

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০১১

ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে: মোশাররফ

ঢাকা, ৬ আগস্ট (শীর্ষ নিউজ ডটকম): বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দ্যা ইকোনোমিস্ট পত্রিকায় বর্তমান সরকার সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সমর্থন করে বলেন, ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনই প্রমাণ করে বাংলাদেশে বর্তমানে কেমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে 'সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশ প্রেমিকদের করণীয়' -শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
দ্যা ইকোনোমিস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত আওয়ামী লীগ ভারতের টাকা এনে নির্বাচন করেছে এমন তথ্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, সরকার ভারতের কাছ থেকে টাকা এনে নির্বাচন করেছে বিধায় ভারতের স্বার্থ রক্ষার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে, যাতে আগামীতে আবারো তাদের মদদে ক্ষমতা দখল করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ভারতের সাথে যদি দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি বর্তমান সরকার করে তবে এদেশের জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না।
তাছাড়া ইকোনোমিস্ট পত্রিকার রিপোর্টের সাথে সম্মতি জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, সরকার আবারো জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই নিজ দলের অধীনে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বলার প্রসঙ্গে মোশররফ প্রধানমন্ত্রীকেই জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেন। কারণ পঞ্চদশ সংশোধনী জনগণের রায় নয় বরং আওয়ামী লীগের দলীয় হীন স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশ আজ অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, এর পরিণতি সংঘাত। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। কারণ জনগণ দেখছে দ্যা ইকোনমিস্টের বক্তব্য, দ্রব্যমূল্য অনহনীয় অবস্থা, আইনজীবীরা কারাগারে, বাংলাদেশের উপর শকুনের আনাগোনা চলছে।
জাগপা সভাপতি সফিউল আলম প্রধান বলেন, ইকোনোমিস্টের রিপোর্টই প্রমাণ করে সরকার নির্বাচনে কিভাবে জিতেছে? আমরাও একই কথা বলেছি। তাতে কাজ হয়নি বরং মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার ভারতের সাথে গোপন চুক্তি করে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিচ্ছে যা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ পার্লামেন্ট সদস্যও জানেন না। মনমোহন সিং ৬ সেপ্টেম্বর আসছেন বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করতে। এ জন্য তারা বিরোধী দলকে ধ্বংস করার পাঁয়তারায় নেমেছে। যাতে বিরোধীদল আন্দোলন করতে না পারে। আর তাই আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে তারেক জিয়া ও কোকোকে বিভিন্নভাবে মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে জানা যাচ্ছে। জনগণ এ গজব থেকে মুক্তি চায়। জনগণই এর প্রতিবাদ অবশ্যই জানাবে।
স্বদেশ জাগরণ পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য এডভোকেট খোরশেদ আলম মিঞা, রফিক সিকদার, অর্পনা রায় দাস প্রমুখ।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম /এইচএস/এম/সস/১৫.৪৩ঘ.)

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০১১

হাসপাতালে নেয়ার পথে বাঁধা




হাসপাতালে নেয়ার পথে বাঁধা : হাসপাতালে নেয়ার পথে গ্রেফতার করা হতে পারে এমন আতঙ্কে চিকিত্সাহীন অবস্থায় দুই ঘণ্টা ন্যাম ভবনে পড়েছিলেন গুরুতর আহত জয়নুল আবদিন ফারুক। তাকে গুলশানে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার পথেও পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এমপি। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিত্সা করতে বাধা দেয়ার উদ্দেশ্যে গুলশান থানার ওসিসহ দুটি দল তাদের ফলো করে হাসপাতাল পর্যন্ত যায়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে তারা পিছু হটে। তিনি আরও বলেন, চিকিত্সার অভাবে জয়নুল আবদিনের শারীরিক ক্ষতি হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। এদিকে হাসপাতালের চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, আহত জয়নুল আবদিনকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি নিউরো সার্জন বজলুল করিমের তত্ত্বাবধানে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ডা. হুমায়ুন আমার দেশকে বলেন, পরিষ্কার করার সময় তারা মাথা, দুই পায়ের হাঁটু ও বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১১

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রসঙ্গে


জুন ১৯৭৫ ও জুন ২০১১। প্রথমটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান সংবিধান পরিবর্তন করে বাংলাদেশে একদলীয় বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) শাসনের সূচনা করেন। দ্বিতীয়টিতে শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা, দেশের দুইবারের এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের প্রারম্ভে বর্তমান সংসদে মেয়াদ শেষ হলে অনুষ্ঠিতব্য ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে।



১৯৭২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনী উপস্থিত করতে গিয়ে বাংলাদেশের অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করা, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যেই এ সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে!

বাংলাদেশে বিচিত্র ঘটনাবলীর অভাব নেই। কাজেই দেখা গেল যে, এই 'মহাগুরুত্বপূর্ণ' সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থিত করলেও বেচারা আইনমন্ত্রী জনগণের কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি না হওয়ার কারণে ভোটদানের সময় তার মতোই আর দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সংসদের মেঝে দাঁড়িয়ে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা করলেন!!! বিলটি উপস্থিত করতে গিয়ে গণতন্ত্র বিষয়ে অনেক লম্বা লম্বা কথা বলার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হওয়ার কারণে নিজের উত্থাপিত বিলের পক্ষে নিজেই ভোট দিতে অক্ষম হয়ে এভাবে জাতীয় সংসদের মেঝে দাঁড়িয়ে থাকা আইনমন্ত্রীর জন্য করুণ ব্যাপার হলেও এটা প্রকৃতপক্ষে ছিল বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকারের গণতন্ত্র প্রেমের এক ব্যঙ্গচিত্র!!

পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যে যেসব বিষয় ঢোকানো হয়েছে সেগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় Bull in a china shop এর কথা। চীনে মাটির জিনিসপত্রের দোকানে ঢুকে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ষাঁড় সব কিছু ভেঙেচুরে তছনছ করার মতো ব্যাপারই এক্ষেত্রে ঘটেছে।

বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান ও মতামতের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তার ঘোর বিরোধী। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর সংবিধান আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পরিণত হওয়ার যে কথা তিনি বলেছেন, তার সঙ্গে একমত হওয়ায় অসুবিধা নেই। আসলে সংবিধানে যেসব জিনিস ঢোকানো হয়েছে সেগুলো যে কোন সংবিধানে ঢোকানো যেতে পারে, এ চিন্তা অন্য কারও মাথায় কোনদিন এসেছে বলে মনে হয় না!! কারণ বিশ্বের কোন দেশের সংবিধানেই এরকম কোন জিনিসের অস্তিত্ব নেই।

এই সংশোধনী বিলের ষষ্ঠ তফসিলে ১৫০ (২) অনুচ্ছেদে '১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা' অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রথমত, এই ধরনের কোন ঘোষণা ইতিহাসের পাতায় থাকতে পারে, যদি তা সত্য ও গ্রাহ্য হয়। কিন্তু কোন সংবিধানের শরীরে একে ঢোকানোর কারণ সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের লোক ও তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী ছাড়া এই ঘোষণার সত্যতা দেশের অন্য কেউ স্বীকার করেন বলে জানা নেই। এই অবস্থায় এ ধরনের একটি বিতর্কিত বিষয়কে সংবিধানের শরীরে ঢুকিয়ে দেয়া এক বিস্ময়কর ব্যাপার!

এর থেকেও বিস্ময়কর ব্যাপার এই, শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের 'গুরুত্ব অনুধাবন' করে সেটিকেও সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা অর্থাৎ শরীরে ঢোকানো হয়েছে!! এছাড়াও এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানে ঢোকানো হয়েছে মুজিবনগর সরকারের ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

অবস্থা দেখে মনে হয়, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী সংযোজন করলে সেটা মানানসই হতো!!

অতি ক্ষুদ্র দলীয় চিন্তা থেকে ও দলীয় স্বার্থে একটি দেশের সংবিধানকে এনে দাঁড় করালে শাসকশ্রেণীর ব্যাপক অংশের পক্ষেও একে আর পবিত্র মনে করার কোন কারণ থাকে না। এর প্রতি আনুগত্যের কোন ভিত্তি থাকে না।

এ প্রসঙ্গে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ করা অবশ্যই দরকার। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এতই বড় গণতন্ত্রের পূজারী যে, তারা এই পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করার এবং শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দণ্ডের ব্যবস্থা রেখেছেন।

অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল সামরিক বাহিনীর পক্ষেই সম্ভব এবং তারাই এটা করে থাকে। বাংলাদেশেও এটা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরবর্তী পর্যায়ে কয়েকবার ঘটেছে। এটা সর্বশেষ ঘটেছে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। এভাবে সামরিক বাহিনী ফখরুদ্দীন আহমদকে শিখণ্ডী হিসেবে সামনে রেখে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় আসার সময় বিজয় গর্বে উৎফুল্ল হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের বেনামি সামরিক শাসনকে স্বাগত এবং অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তাদের নিজেদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে!

আসলে সেটা ছিল নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার ব্যাপার!! কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই দেখা গেল, আওয়ামী লীগ নিজের নাক কেটে শুধু বিএনপিরই যাত্রা ভঙ্গ করেনি, যাত্রা ভঙ্গ হয়েছিল তাদের নিজেদেরও!! তাদের আন্দোলনের ফসল তারা ঘরে তুলতে পারেনি। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দু'জনকেই ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন সরকার কয়েদ করে তাদের তথাকথিত মাইনাস টু লাইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে দুই দলের মধ্যেই ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছিল!!! শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে কত 'বিজ্ঞ' ও 'দূরদর্শী', এটা ঠিক তারই এক প্রামাণ্য দৃষ্টান্ত!!

যা হোক, এ প্রশ্নে আসল কথায় ফিরে গিয়ে বলা দরকার যে, কোন দেশে সামরিক বাহিনী যখন ক্ষমতা দখল করে তখন তারা কোন সময়েই সেটা সাংবিধানিক পন্থায় করতে পারে না। দেখা যায়, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কোন দেশে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলে তারা সংবিধানকে উচ্ছেদ করেই ক্ষমতায় আসে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে একটি হল, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলেও তারা সংবিধান উচ্ছেদ না করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করে আইনের একটা কাঠামো ঠিক রেখেছে। খোন্দকার মোশতাকের বেনামি সামরিক সরকার, জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার, এরশাদের সামরিক সরকার এবং ফখরুদ্দীনের বেনামি সামরিক সরকারের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই এটা হয়েছে। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় এলেও সংবিধানকে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রক্ষা করেই তারা ক্ষমতায় এসেছে। ইচ্ছা করলে এই সামরিক সরকারগুলোর যে কোনটিই বিদ্যমান সংবিধান উচ্ছেদ করতে পারত, যেভাবে পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে এটা হতে দেখা গেছে। কিন্তু সেই বড় ঝামেলার মধ্যে না গিয়ে বাংলাদেশের সামরিক সরকারগুলো সংবিধান সংশোধন করেই কাজ চালিয়েছে।

এর শিক্ষা তারা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেই পেয়েছিল!

১৯৭৫ সালে তিনি চতুর্থ সংশোধনীর মতো গণতন্ত্র বিনাশকারী একটি সংশোধনী জাতীয় সংসদে কোন আলোচনা হতে না দিয়েই যেভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পাস করিয়েছিলেন, সেটাই বাংলাদেশে সামরিক শাসনের পথ দেখিয়েছিল। তার থেকেই সামরিক বাহিনীর লোকরা শিখেছিল কিভাবে সংবিধান সরাসরি উচ্ছেদ না করে তাকে ছুরি মেরে পঙ্গু করে রেখে কাজ চালাতে হয়।

আসলে সামরিক বাহিনী যখনই স্বনামে বা বেনামে ক্ষমতায় আসে, তখন তারা সংবিধানের কোন পরোয়া করে না। কারণ কোন সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী তারা ক্ষমতায় আসে না এবং সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষার প্রয়োজনও তাদের হয় না। সামরিক বাহিনী বাংলাদেশে যেভাবে সংবিধান রেখে ক্ষমতা পরিচালনা করে এসেছে, সেটা প্রকৃতপক্ষে ছিল একটা Legal courtesy বা আইনগত সৌজন্যের ব্যাপার।

এখন পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করলে তার জন্য যেভাবে সর্বোচ্চ দণ্ডের ব্যবস্থা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে যদি সামরিক বাহিনী সরাসরি অথবা বেনামে ক্ষমতা দখল করে তাহলে সংবিধানের প্রতি এই সৌজন্য তারা প্রদর্শন না করতেও পারে। অর্থাৎ এবার সামরিক বাহিনী বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের পর বিদ্যমান সংবিধান উচ্ছেদ হওয়ার শর্তও সংবিধানের নিজের শরীরেই তৈরি হয়েছে!!!

এরপর আসা দরকার সংশোধনীটির অন্য কয়েকটি বিষয়ে। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল নিয়েই সব থেকে বিরোধিতা ও চাঞ্চল্য শাসকশ্রেণীর নিজের বৃত্তের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরোধিতা ও চাঞ্চল্য যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে তার থেকেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনও কতখানি অপরিহার্য। কোন একটি ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না, তাদের অধীনে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনে নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে পারে না, এই ধারণা রাজনৈতিক মহলে থাকার কারণেই ১৯৯১ সালের নির্বাচন সংবিধানের কোন সংশোধনী ছাড়াই পরিস্থিতির তাগিদে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হয়েছিল। পরে ১৯৯৬ সালে সেই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় বিএনপি জোর করে নির্বাচন করায় আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচন বয়কট করে এবং তার ফলে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করে ১৯৯৬ সালেই আর একটি নির্বাচন করতে হয়। এ দিক দিয়ে আজও সেই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন যে হয়নি, এটা ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতসহ শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন দলের প্রবল বিরোধিতা থেকেই দেখা যাচ্ছে।

এই বাস্তব পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রহিত করেছে! এর ফলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ সরকার যদি তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে নির্বাচনের সুযোগ পায়, তাহলে সেই নির্বাচন অবশ্যম্ভাবীরূপে বিএনপি এবং অন্য অনেক দলের দ্বারাই বয়কট হবে এবং ১৯৯৬ সালের মতো আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে নতুন একটি নির্বাচন করতে হবে!!

সংবিধানে জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহ সংযোজন করায় তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ অনেক 'ধর্মনিরপেক্ষ' কথা বলেছিল। কিন্তু পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সত্ত্বেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে 'জনগণের সেন্টিমেন্টের' কথা বলে এখন সেই বিসমিল্লাহ বহাল রাখা হয়েছে! এরশাদ অষ্টম সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার সময়েও আওয়ামী লীগ তার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু এখন সেই একই কারণে তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখেছে। অন্যদিকে তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুদ্ধার করে সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা বলে চার মূলনীতির অন্যতম হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাও বহাল রেখেছে!! অন্য সব ধর্মের লোকদের ধর্মপালনের অধিকার তারা এই সঙ্গে রক্ষা করবে বলে তাদের এই উল্টো কাজ জায়েজ করার চেষ্টাও তারা করেছে!! প্রতারণার চেষ্টা ছাড়া এটা আর কী? কিন্তু এর দ্বারা কি কেউ প্রতারিত হবে? সোনার পাথর বাটিতে কি কেউ বিশ্বাস করে?



জুন ১৯৭৫ ও জুন ২০১১। প্রথমটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান সংবিধান পরিবর্তন করে বাংলাদেশে একদলীয় বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) শাসনের সূচনা করেন। দ্বিতীয়টিতে শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা, দেশের দুইবারের এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের প্রারম্ভে বর্তমান সংসদে মেয়াদ শেষ হলে অনুষ্ঠিতব্য ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে।

এ দিক দিয়ে বামপন্থীদের অবস্থা আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ! বেচারারা লোক দেখানোর জন্য সিপিবির নেতৃত্বে সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম রাখার বিরোধিতার জন্য জোট বেঁধে মিটিং মিছিল করেছে। কিন্তু আবার হালুয়া-রুটি রক্ষার জন্য জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে পঞ্চম সংশোধনীতে উভয়কেই বহাল রাখার জন্য ভোট দিয়েছে!!! তারা নাকি ভোট দেয়ার আগে এ বিষয়ে তাদের মতের পার্থক্য লিপিবদ্ধ করেছে!!!! এদের যে অংশ আওয়ামী লীগের জোটে আছে এবং যারা নেই তার মধ্যে পার্থক্য করতে যাওয়াও এক ভ্রান্ত ব্যাপার। এদেরও প্রতারণার চেষ্টা যে নিষ্ফল এতে আর সন্দেহ কী? জাতীয় সংসদে বামপন্থীরা পঞ্চদশ সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট দেয়ার পর অন্য বামপন্থীরা তাদের ধিক্কার দিয়ে যে কোন প্রতিবাদ বিবৃতি দেয়নি, এর থেকেই প্রমাণ হয় যে তাদের মধ্যে এসব ব্যাপারে কার্যত কোন পার্থক্য নেই। তারা সবাই একই গর্তের শিয়াল!!

পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে আলোচনার অনেক কিছুই আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের উগ্র জাতীয়তাবাদ কিভাবে নতুন করে সংবিধানের শরীরে ঢোকানো হয়েছে সেই কথা বলে এই আলোচনা এখানে শেষ করা হবে। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান মানবেন্দ্র লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিদের বাঙালি হয়ে যাওয়ার হুকুম দিয়ে, তাদের জাতিসত্তাকে কোন ধরনের স্বীকৃতি না দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশের সব জনগণকে আগের মতো একইভাবে বাঙালি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্য জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের কোন স্বীকৃতিও এর মধ্যে নেই। শুধু বলা হয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা হবে। অর্থাৎ তাদের নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী নাচ-গান করার অধিকার তাদের থাকবে!! ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অধিকারের ধারে-কাছেও এই সংশোধনী নেই।

এ পর্যন্ত এসে বলা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ নিজের দলীয় স্বার্থে সংবিধানকে যে জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির সঙ্গে সংবিধানের অস্তিত্বও এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়েছে। বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর জন্য এ এক অশনি সংকেত।


http://www.bangladeshfirst.com/newsdetails.php?cid=30&scid=43&nid=1641

বুধবার, ২৯ জুন, ২০১১

যুবলীগ নেতারা ঘুরছেন দেশে দেশে নোবেল পুরস্কারের জন্য শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক লবিং

নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে সংবাদদাতাঃ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার মনোনয়ন তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য চলছে জোর আন্তর্জাতিক লবিং। বাংলাদেশ যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এজন্য আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টির কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন,
জাপান সহ বিভিন্ন দেশের নীতি নির্ধারক ও বুদ্ধিজীবি মহলে বাংলাদেশ সহ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনা কি ভূমিকা পালন করছেন ধরা হচ্ছে সে সবের বিবরণ।
অতি সমপ্রতি যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফর করে গেছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে একই উদ্দেশ্যে তারা বস্টন ও নিউইয়র্ক সফর করেন।
এই টীমে আরো রয়েছেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, অথনীতিবিদ আবুল বারাকাত ও সাংবাদিক বুরহান কবির। জনগনের ক্ষমতায়ন ও শেখ হাসিনার শান্তি দর্শন শিরোনামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন তা তুলে ধরা হচ্ছে বিশ্বের নীতি নির্ধারক ও আইন প্রনেতাদের কাছে।
গত ১৪ জুন যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল হিলে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা সাবেক স্পীকার ও বর্তমানে কংগ্রেসে মাইনরিটি লীডার ন্যান্সি পেলোসীর সাথে সাক্ষাত করেন।
একই সময়ে তারা কংগ্রেস সদস্যা শিলা জ্যাকসন লী ও কংগ্রেসম্যান হেনসেন ক্লার্ক, ও ম্যরিল্যান্ড থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য ভ্যান হল্যানের সাথেও কথা বলেন।
সাক্ষাতকালে শেখ হাসিনার রাজনেতিক ইতিহাস ও শানি- প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়টি উপস'াপন করেন।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম শানি- চুক্তি, মৌলবাদ ও উগ্রবাদ বিরোধীতায় শেখ হাসিনার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উদাহরন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে যুুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রন জানানোর অনুরোধ জানানো হলে ন্যান্সি পেলোসী বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
গত ১৫ জুন বুধবার এই প্রতিনিধি দল লন্ডনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেছেন। লন্ডনের আইন প্রনেতা সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তারা বিশ্ব শানি- প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার দর্শনের বিষয়টি উপস'াপন করেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে জাপান সফর করে সেখানেও একই বিষয় উপস'াপন করা হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবশালী অন্যান্য দেশেও শেখ হাসিনার শানি- দর্শনের বিষয়টি উপস'াপন করা হবে বলে জানা গেছে। এজন্য যুবলীগ নেতৃবৃন্দকে বিশেষ দেয়া হয়েছে বিশেষ মিশন।
যুবলীগ নেতৃবৃন্দ সাক্ষাত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এমন একজন সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সুদুর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে শেখ হাসিনার শানি- দর্শনকে তুলে ধরার কারণ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। সঙ্গত কারণে আমি নিজেও কৌতুহলী ছিলাম এর বিষয়বস' নিয়ে। তবে সাক্ষাতের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, নোবেল পুরস্কারে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করাই মুলত এই প্রয়াসের সার্বিক লক্ষ্য। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস সদস্যের যে কেউ প্রস-াব পাঠাতে পারেন।
নিউইয়র্কে বসবাসরত জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নিউ নেশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ফাজলে রশীদ এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শেখ হাসিনাকে কিভাবে নোবেল পুরস্কার পাওয়ানো যায় এটাই সবকিছুর মুল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম ইতোমধ্যেই বিষয়টি খোলাসা করে দিয়েছেন। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে প্রকাশ্যে তিনি বলেছেন, শানি-তে নোবেল দিলে সেটা শেখ হাসিনাকেই দেয়া উচিৎ ছিল। ড. ইউনুস ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় এটা বলেছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ সহ শানি-র পতাকাবাহী হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বে এক নতুন ইমেজ সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন।
মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের আস-ানাকে ভেঙ্গে দিয়েছেন। এখন তাঁকে শানি-র দূত হিসেবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে সম্মান জানানো উচিৎ।
নোবেল কমিটি এই বিষয়টি বিবেচনা করবে আমি মনে করি। তিনি বলেন, যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যেই নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে এর যথার্থতা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। এবিষয়ক কিছু বইপত্র তারা সবাইকে দিচ্ছেন। আমাকেও দেয়া হয়েছে। এব্যপারে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোন উদ্যোগের প্রয়োজনন হলে তাতে কার্পন্য করা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একটি সূত্রের মতে যাদের মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা মোটেও যথার্থ হয়নি। সূত্রমতে, প্রকাশ্যে যুবলীগকে দিয়ে এই কাজ না করিয়ে এমন লোকদের নিয়োগ দেয়া উচিৎ ছিল যাদের গ্রহণযোগ্যতা ও ইমেজ ভীন্ন। কারণ একাজের জন্য দলীয় লোকের প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে অধ্যাপক গওহর রিজভী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স'ায়ী প্রতিনিধি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তারা মন-ব্য করেন।
তাদের মতে, এধরনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ড. নুরুন্নবী, ড. মোহসীন আলী, ড. সিদ্দিকুর রহমান ও অধাপক খালিদ হাসান কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারতেন।
তবে কূটনৈতিক সূত্র সব চাইতে বেশী কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে এক্ষেত্রে।
সূত্রমতে, ড. ইউনুস ইস্যুু নিয়ে সরকারের প্রকাশ্য অবস্থানের বিষয়টি যখন সবাই পর্যবেক্ষন করছে তখনই সরকার প্রধানের জন্য নোবেল পুরস্কারের লবিংয়ের বিষয়টি আন-র্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্রমতে, একাজে জনমত গঠনের জন্য ৩টি বই বের করা হয়েছে। এর একটির ইংরেজী অত্যন্ত দুর্বল বলে মন্তাব্য করেন তারা।


http://www.amadersylhet.com/index.php?option=com_content&view=article&id=2318%3A2011-06-27-20-33-31&catid=68%3Abibid2news

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১

সোনিয়া, মনমোহন কী নিয়ে আসছেন বাংলাদেশের জন্য

বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি কেমন চলছে­ এ প্রশ্নের জবাবে গত কিছু দিনের খবরের প্রতি লক্ষ করলে তা সহজেই বোঝা যাবে। গত ৬ জুন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। ১৯ জুন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিজয় কুমার সিং বাংলাদেশ সফরে আসেন। তিনি চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি বিএমএ-তে পাসিং আউট প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী আগামী ২৫ জুলাই ঢাকায় আসবেন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এস কৃষ্ণ আসবেন তার আগে ৬ জুলাই। জুলাই মাসেই ঢাকা সফরে আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। যারা জুন মাসে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন এবং যারা জুলাই মাসে সফরে আসছেন, তারা সবাই ভারতের শীর্ষপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ব্যক্তি। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে শেখ মুজিবের আমলে ইন্দিরা গান্ধীর সফরের পর এত ঘটা করে আর কখনো ভারতীয় নেতাদের বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের এই সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর ও ভারতকে ট্রানজিট সুবিধাদি দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিল্লির শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা যে দিল্লি চুক্তি করে এসেছেন, এখন চলছে তার বাস্তবায়ন পালা এবং এই বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্যই এত সব আয়োজন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকতেই দিল্লি চুক্তি যাতে সন্তোষজনকভাবে কার্যকর হয় সে প্রচেষ্টাই চলছে।

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের বৃহত্তর অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রবেশের জন্য যে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন, তার মৃত্যুর পর জিয়াউর রহমানও বস্তুত একই পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে তার বিকাশ ঘটান। এরশাদও কম-বেশি সে পররাষ্ট্রনীতিই অনুসরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এক ছিল না। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল মার্কিন-সোভিয়েত ঠাণ্ডালড়াইয়ের সময়, যে কারণে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন পেয়েছিল সুষ্ঠু সোভিয়েত ব্লকভুক্ত দেশগুলোর। অপর দিকে মার্কিন ব্লকভুক্ত দেশগুলো ও চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। প্রধানত মার্কিন ব্লকভুক্ত হওয়ায় মুসলিম আরব দেশগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেনি। শেখ মুজিব বাংলাদেশকে সোভিয়েত ব্লকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেখান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ জন্য তিনি (মার্কিন) যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোর স্বীকৃতির জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলেও মুসলিম আরব দেশগুলো স্বীকৃতি দেয়া থেকে বিরত থাকে। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ তখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলমান অধ্যুষিত দেশ। বাংলাদেশকেও ওআইসি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং ওআইসির কয়েকজন নেতা ঢাকায় আসেন শেখ মুজিবকে ওই সম্মেলনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শেখ মুজিব এই সুযোগ গ্রহণ করে লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করেন।

এরপরই সৌদি আরব ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। স্বাভাবিক কারণেই ইন্দিরা গান্ধীর দিল্লি সরকার শেখ মুজিবের ওআইসি সম্মেলনে যোগদান সুনজরে দেখেনি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সন্দেহ ও তিক্ততার বীজ রোপিত হয় এ সময়ই। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের মনোভাব ও আচরণের কারণে শেখ মুজিবের আমলেই কিভাবে সম্পর্কের অবনতি ঘটে তার আরেকটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের জন্য ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের পার্লামেন্টে তা অনুমোদিত হয়। কিন্তু অনুমোদনের জন্য ভারত সরকার তা পার্লামেন্টে কোনো দিনই উথাপন করেনি। ৩৫ বছর পর আজো তা অননুমোদিত অবস্খায়ই রয়ে গেছে। ছিটমহলগুলোর ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১০ লাখ একর জমি আমাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হতো। এই বিরাট ভূখণ্ড হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে দিল্লি চুক্তিটি পার্লামেন্টে অনুমোদন করায়নি। বেরুবাড়ি ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হলেও বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল যাতায়াতের জন্য তিন বিঘা করিডোর পায়নি। সমুদ্রসীমা চিহ্নিত করার উদ্যোগ শেখ মুজিবের আমলেই গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু ভারতের অপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাবের কারণে সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়।

এসব ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় কিভাবে স্বাধীনতার গোড়া থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আস্খার সঙ্কট সৃষ্টি হয়, যার জন্য ভারতের স্বার্থপর অনুদার নীতিই দায়ী। পরবর্তীকালে এই আস্খার সঙ্কট গভীর হয় অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা ও সীমান্ত সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ইস্যুতে। আস্খার সঙ্কট সৃষ্টির জন্য দায়ী এসব কারণের ফয়সালা ছাড়াই বর্তমান সরকার ভারতের সাথে শর্তহীনভাবে উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্খাপনের জন্য যে আপস করে তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এই পররাষ্ট্রনীতির সূত্রপাত ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেছিলেন, তিনি ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এমন একপর্যায়ে নিয়ে যাবেন, যা আর পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। জেনারেল মইনের দিল্লি সফর সে পরিবর্তনের ভিত রচনায় সাহায্য করে। বর্তমান সরকারের ভাষায় বাংলাদেশ ট্রানজিটের দেশ, অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার জন্য। অন্য কথায়, বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের সাহায্য করার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তাকে ভারতের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা। ভারতের অ্যাগ্রেসিভ ডিপ্লোম্যাসির কাছে আমাদের সরকারের আত্মসমর্পণের নীতি ভারতের সে উদ্দেশ্যকে পূরণ করেছে। এই পররাষ্ট্রনীতি চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছেও বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।

ভারতীয় নেতা-নেত্রীদের সফরসূচি অনুসারে জুলাই মাসে ঢাকা কূটনৈতিক তৎপরতার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করা হবে, তবে তা কিভাবে করা হবে, এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। সোনিয়া গান্ধীর পরেই আসবেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। শীর্ষপর্যায়ে আলোচনা হবে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। শেখ হাসিনা দিল্লি সফরের সময় যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে এসেছেন, বিশেষত ট্রানজিট সুবিধা বাস্তবায়নে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যালোচনাই হবে শীর্ষ বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়। এ ছাড়া আলোচ্যসূচিতে ছিটমহল বিনিময়, সীমান্ত পরিস্খিতি, তিস্তা নদীর পানিবন্টন চুক্তিসহ আরো কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয় থাকবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এখানে বিশেষভাবে যা লক্ষণীয় তা হচ্ছে, এসব দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর সমাধান ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য প্রাপ্য, বাংলাদেশের কাছে ট্রানজিট বা করিডোর ভারতের প্রাপ্য নয়। হাসিনা-মনমোহন আলোচনার ফলে বাংলাদেশ যা-ই পাক না কেন, তা ট্রানজিটের বিনিময় হতে পারে না।

ইতোমধ্যে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমণি চীন সফরে গেছেন। চীন সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কুনমিং-টেকনাফ সরাসরি সড়ক ও রেলযোগাযোগ স্খাপনে সহযোগিতা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন প্রকল্প সহায়তা নিয়ে আলোচনা হবে। দীপুমণি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিনজিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জাইচি, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। তার মূল উদ্দেশ্য হয়তো তা নয়। অতিমাত্রায় দিল্লিপ্রীতির ফলে পররাষ্ট্রনীতিতে যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে, কিছুটা সামাল দেয়ার জন্যই তিনি চীন সফরে গেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘটনায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করায় সৌদি আরবের সাথে শীতল সম্পর্ক চলছে; অতিমাত্রায় ভারতপ্রীতির কারণে যদি চীন বন্ধুত্বের হাত সঙ্কুচিত করে, তাহলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ কি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে না? 

http://www.sonarbangladesh.com/articles/AmanullahKabir